March 31, 2008

মার্চ সংখ্যার প্রচ্ছদ

মার্চ সংখ্যার সম্পাদকীয়

১.
প্রদীপের আলোর নিচেই অন্ধকার, চর দখলের ঢোল বাজছে, দখল হয়ে যাচ্ছে
সময়, মানুষ, শিল্প-সাহিত্যও
বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক মিথ্যাচার ;
এক নম্বর উৎকৃষ্ট পণ্য. পেটেন্ট বুদ্ধিজীবী ........
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ........
বিবেক-পচন ও অস্তিত্ব-সংকট প্রতিরোধে
বিজ্ঞাপন-প্রভাবিত পণ্য
পরিহার করাই শ্রেয়
ভাববাদ না বস্তুবাদ ........... কনফিউসন........
কনফেশন করতেও ভয়
বর্ণচোরগণ তাদের বিকৃত দ্বৈতরূপ
সযত্নে লুকিয়ে রাখে
তথাকথিত প্রগতিবাদী খর্বকায়
অস্তিত্বেশিল্পের বনসাই সংস্করণ,
বিজ্ঞাপন-আধিক্য সাহিত্য
আমরা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করি
শুদ্ধ শিল্পের অস্তর্গত সৌন্দর্য
আমাদের মুগ্ধ ও
সাহসী করে ; তাই সময়-আক্রান্ত
জীবনের খোঁজে
দূর্গম সময়ের বুক চিরে আমাদের তীর্থযাত্রা

২.
সন্মান জানাই জলগৃহর পাঠকগোষ্ঠীকে ;
তাঁরা যথেষ্ঠ আগ্রহ আর মনোযোগ
দেখিয়েছেন সূচনা-সংখ্যা পাঠ করেই
আন্তরাষ্ট্রীয় পাঠক
ওয়েবসাইট সংস্করণ
পাঠ করছেন প্রতিদিন,
মতামত প্রকাশ করছেন,
তাঁদের সবাইকে অশেষ কৃতজ্ঞতা

৩.
এই দেশ এবং স্বাধীনতা নির্মান করেছেন যাঁরা,
স্বাধীনতার সেই সব মহান স্থপতিদের
জানাই শ্রদ্ধা এবং অভিবাদন


পাঠক, আপনাকে ধন্যবাদ

গল্পটি যা বলার তা বলেছে

ডরিস লেসিং এর সাক্ষাৎকার
অনুবাদ: সুশান্ত বর্মন



জন্মেছিলেন ইরানে১৯১৯ সালের ২২ অক্টোবরজিম্বাবুয়েতে পিতার খামারে কেটেছে সবুজ শৈশববিস্তীর্ণ প্রান্তর শিশু ডরিসকে নৈঃসঙ্গের সৌন্দর্য চিনিয়েছেবিশাল দিগন্ত সম্প্রসারিত করেছে মনের জানালাবাকী জীবনে ডরিস লেসিং এই ঔদার্য দিয়েই চিনেছেন পৃথিবীকেপ্রথম উপন্যাস দ্যা গ্রাস ইজ সিঙ্গিংপ্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে চারপাশে সাড়া পড়ে যায়বর্ণবাদ এবং এ প্রেক্ষাপটে মানুষের মানবীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন উপন্যাসের মূল বিষয়ফলে ১৯৫৬ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ডরিস লেসিং নিষিদ্ধ হয়ে যানএকসময় কমিউনিজম তাঁকে আকৃষ্ট করেছিলকিন্তু মার্ক্সীয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তব সমাজ তাঁকে হতাশ করেতিনি আসলে তথাকথিত আদর্শনির্ভর জীবন যাপন করতে চাননিধর্মীয় চিন্তা, কমিউনিজম ইত্যাদি তাঁর কাছে ডগমা নির্ভরতা বলে মনে হয়তিনি যে কোন রকমের ডগমার কাছে আত্মসমর্পণকে ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করেনবস্তুত কোন কিছুর অবিনশ্বরতায় তাঁর বিশ্বাস নেইযুদ্ধ তাকে সবসময় পীড়া দেয়তিনি বলেন প্রথম মহাযুদ্ধ আমাদেরকে মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেআমাদের নীতিবোধকে ধ্বংস করেছে, আর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সবকিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেআমরা দিনে দিনে অমানবিক হয়ে যাচ্ছিডরিস লেসিং এর লেখায় এর সবকিছুই এসেছে সমান্তরালভাবেজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাঁকে নারীবাদী হতে দেয়নিবরং তিনি নারীবাদীদের নিয়ে সবসময় মশকরা করেছেনতিনি বরং বলেনআমাকে জড়িয়ে যেসব নারীবাদী বিশেষণ দেয়া হয় তার সবগুলোই মিথ্যা
ডরিস লেসিং লিখতে বেশ পছন্দ করেননির্জনতা তাঁকে খুব টানেপৃথিবীব্যাপী ঘুরে বেড়াবার একাধিক প্রস্তাব তিনি অবহেলায় ফিরিয়ে দেনতিনি বলেন ঘুরতে ভালো লাগেনাতার চেয়ে এই সময়ে বাসায় বসে আর একটি বই লিখে ফেলি
আটাশিতম জন্মদিনের মাত্র এগারোদিন আগে তাঁর নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য ঘোষিত হয়সেসময় তিনি অসুস্থ পুত্রকে হাসপাতালে দেখে বাড়ি ফিরছিলেনবাড়ির সামনে মিডিয়ার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি যখন ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেন তখনই টেলিফোনে নিম্নোক্ত সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়আট মিনিটের এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন অ্যাডাম স্মিথ

ড. লে: হ্যালো
অ্যা. স্মি: শুভ সকালআমি কি ডরিস লেসিংয়ের সাথে কথা বলতে পারি?
ড. লে: কে বলছেন?
অ্যা. স্মি: নোবেল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে আমি অ্যাডাম স্মিথ বলছি সংরক্ষণে রাখার জন্য আমরা ঐতিহ্যগতভাবে নতুন লরিয়েটদের একটি ছোট্ট সাক্ষাৎকার টেলিফোনে নিয়ে থাকিআশা করি এই আলোচনার জন্য খুব অল্প কয়েক মিনিট আমরা ব্যয় করবো
ড. লে: আচ্ছাতারপর?
অ্যা. স্মি: সত্যিই আপনাকে অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ
ড. লে: ধন্যবাদ
অ্যা. স্মি: সুইডিশ একাডেমীর প্রতিবেদনটি কি আপনি দেখার সময় পেয়েছেন?
ড. লে: না, আসলেই নাআমি এখনও দেখিনিআপনি জানেন আমি এই দুপুরে আমার ছেলেকে হাসপাতালে রেখে এলামআমি ছাপানো কোন কিছু এখনও দেখিনিআর…. নোবেল কমিটির সচিবের সাথে অবশ্য আমার আগে কথা হয়েছিল
অ্যা. স্মি: তার মানে আপনি হোরেস ইঙ্গডাহল এর সাথে কথা বলেছেন?
ড. লে: হ্যাঁ
অ্যা. স্মি: তাঁদের প্রতিবেদনে আপনার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, "আপনি নারী বিষয়ক অভিজ্ঞতার মহাকাব্যিক লেখক, যিনি সংশয়বাদ, জ্বালাময়ী শক্তি ও দূরদৃষ্টি দিয়ে বিভক্ত সভ্যতাকে নিরীক্ষার জন্য বিষয়ভূক্ত করেছেন" আপনি কি মনে করেন এই বিশেষণগুলি আপনি যা লিখেছেন তার অন্তত: কাছাকাছি গিয়েছে?
ড. লে: আমি ঠিক জানিনা, যখন তারা এমন লিখেছে তখন তাদের মনে কি ছিল? কিন্তু দেখুন আমার মনে হয় তারা বিষয় বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বিপুল পরিমাণের লেখার মুখোমুখি হয়েছিলআপনি কি মনে করেননা যে, এর সবগুলোকে মিলিয়ে সারাংশ করা বেশ কষ্টের?
অ্যা. স্মি: হ্যাঁ, তাতো বটেই
ড. লে: এত সহজ নয়
অ্যা. স্মি: তা ঠিক৫০টির বেশি বই এবং বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের লেখার সংমিশ্রণ আপনার সম্পর্কে বর্ণনাকে কিছুটা অসাধ্য করে তোলেহ্যাঁ তাই আচ্ছা, যখন লেখেন তখন গল্পটি বলার চেয়ে কোন একটি উদ্দেশ্য আপনার মাথায় থাকে এমনটা কি আপনি মনে করেন?
ড. লে: অবশ্যই নাকারন মনে রাখবেন আমি একসময় কমুনিস্ট ছিলাম এবং মানুষের মনের কারিগর হিসেবে লেখকদের বেশ কিছু নোংরা উদাহরণ আমাদের আছেআমাদের যে কাউকে ভীত করে তোলার জন্য এটা যথেষ্টআপনি জানেন আমি সেই প্রজন্মেরই একজন
অ্যা. স্মি: তাহলে আপনার লেখায় উদ্দেশ্যমূলক কিছু খোঁজার ভার কি পাঠকদের উপরে দিতে চান?
ড. লে: আপনি জানেন পাঠকরা যে কোনভাবেই এটা করেপাঠক তার নিজের মন নিজেই তৈরি করে নেয়লেখক শুধু তাকে সঙ্গ দেয়সেখানে আপনার করার কিছুই নেই বস্তুত: আপনার লেখার ভুল ব্যাখ্যাও তারা করতে পারেকিন্তু আপনি এমনটা বলতে পারেননা যে-ওহ না! এধরণের বর্ণনা আদৌ ঠিক নয়আমি যা বোঝাতে চেয়েছি তা অন্যকিছুআপনি লিখবেন এবং পাঠকরা যা চায় তা তাদের প্রত্যাশার উপরে ছেড়ে দিন
অ্যা. স্মি: এবং এভাবে, তাদের জন্য…. অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি অগণিত পাঠককে আপনার লেখনীর কাছে নিয়ে আসতে উৎসাহিত করবেযারা আপনার লেখা পড়েনি তাদেরকে শুরুর জায়গাটি বলবেন কি?
ড. লে: হয়তো অবাক হবেন তারপরও শুধুমাত্র তরুণরা পছন্দ করবে বলেই একটা বিষয় আপনাকে জানাইএটা ফিফথ চাইল্ডসম্পর্কেআমি বিস্মিত যে, অল্প বয়সীরা এটাকে পছন্দ করেঅতএব তারা এটা দিয়ে শুরু করতে পারে এবং নিজেদের কার্যকলাপ বুঝতে পারবেআমি মেরা ও ড্যাননামে একটি রহস্যগল্প লিখেছিলামযেটা তরুণদের পছন্দ বলে আমি জানিএ সম্পর্কে…. এরপর আমার প্রথম উপন্যাস দ্যা গ্রাস ইজ সিঙ্গিংএখনও কত জীবন্ততারা শুরু করার জন্য এটাকেও বেছে নিতে পারে
অ্যা. স্মি: আপনার সৃজনশীলতা অবশ্যই বিস্ময়কর এবং আমার ধারণা কেউ কেউ অবাক হবে এটা ভেবে যে এত সাহিত্যকীর্তিকে আপনি কিভাবে সামলানএটা কি এজন্যই যে আপনার মধ্যে অবিরাম কাজপাগলামোর একটি ঝোঁক রয়েছে? আপনার মনে অনেক গল্প বলার জন্য অপেক্ষা করছে? কোনটা এটাকে সচল রাখে?
ড. লে: আচ্ছা, এটা অবশ্যই সত্য যে, আমার একটা…, লেখালেখি বিষয়ে আমি নিজেই নিজেকে পরিচালিত করেআপনি জানেন আমি এটা ছাড়া আর কিছু করিনাআমি খুব একটা সামাজিক নই এবং আমি আমার পরিপার্শ্ব দ্বারা এমনভাবে বেষ্টিত যে আমাকে দিয়ে তারা লিখিয়ে নেয়আপনি জানেন যদিও আমি সামাজিক ছিলামনা (আমি প্রকৃতিগতভাবে সামাজিক মানুষ), কিন্তু তারপরও আমার ধারণা…. আমি যেটা ভাল পারি সেই আনন্দের জন্য জীবনকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করতে পারি
অ্যা. স্মি: তাহলে এটা কি স্বআরোপিত নির্বাসন? অথবা এটা কি শুধুই সৃষ্টিশীলতা, যা অধিক সম্ভাবনাময় হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করে?
ড. লে: আসলে এটা সেটাই যা আমি নিজে করিআমি প্রাকৃতিকভাবেই এটা করি সবসময়, আমি সবসময় এখন কি লিখছি তা নিয়ে চিন্তা করিকিন্তু আপনি জানেন আমার নানারকরেমর শখ নেইএটাকেও সেরকম ভাবুনএকমাত্র বা অন্য কারণ হিসেবেও
অ্যা. স্মি: গতকাল টেলিভিশনে আপনার প্রতিক্রিয়া দেখে যে কেউ প্রশ্নটির উত্তর আন্দাজ করতে পারবেকিন্তু নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাব্যতার বিষয়ে কিছু বলুন
ড. লে: ওহ সেটা ভাববেন নাআপনি জানেন, সাধারণত ২/১ মাসের মধ্যেই মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেতারা সাক্ষাৎকারের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করেনাআর আমার অতো সময় নেই, আপনি জানেন এত কিছুর জন্য আমার অতো সময় নেইতাই সমস্যাকে তার নিজেকেই সমাধান করতে হবে
অ্যা. স্মি: আর একটি প্রশ্ন, আপনার রচনাশৈলীর পরিসীমা সম্পর্কে কিছু বলুন সম্ভবত: কবিতা ছাড়া আপনি প্রায় সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করেনএই দলবদ্ধতা কি আপনি সচেতনভাবে বেছে নেননি? অথবা এটা নিজেকে প্রকাশ করার কিছু প্রয়োজনীয় ফর্ম মাত্র
ড. লে: না, একসময় আমার এটা আইডিয়া, একটি গল্প অথবা কিছু একটা আমার মাথায় ছিলতারপর এটা নিজেকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে চাইলআপনি জানেন, “ওহ, আমি একটি, জানিনা কি, একটি ৫০,০০০ শব্দের বাস্তববাদী বই লিখতে যাচ্ছি” - এরকমটা আমি কখনই বলবনাতারপর যা ঘটল তা হল বইটি, গল্পটিতে আমি যা বলতে চেয়েছি তাই বর্ণনা করেযেভাবে বলার ছিল সেভাবেই বলে
এজন্য বিভিন্ন ভঙ্গীতে আমাকে লিখতে হয়যদি আপনি এভাবে তা বলতে চান তা পারেন, কারণ আমি সত্যি বিভিন্ন বিষয়ে গল্প লিখেছিএটা অথবা সেটা পড়তে চাওয়ার প্রশ্ন এটা নয়আমি মনে করি যখন আমি সিকাস্তাধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরু করলাম, যেটা লক্ষ বছর পরিসীমার, এর ঘটনাগুলো নিজেই নিজেকে এক একটা ভঙ্গীতে উপস্থাপন করেআপনি আসলে এভাবে শুরু করতে পারেননা, ”ওহ, আচ্ছা, জো ব্লগ তার রান্নাঘরে বসেছিল এবং এক কাপ টাইকু চাপান করল, এবং তার শ্যালিকাকে একটি চিঠি লিখলএটা ভিন্নভাবে বলার একটি পদ্ধতি আপনার থাকতে হবেআসলে এটাই আমার বিষয়বৈচিত্র্যের মূল উৎস
অ্যা. স্মি: হ্যাঁ, অপ্রচলিত পদ্ধতিকে আপনি আত্মস্থ করতে পেরেছেন এটা বুঝতে সুইডিশ একাডেমী অনেক লম্বা সময় নিয়ে ফেলেছে
ড. লে: এ বিষয়ে আমার ধারণা, সম্ভবত, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীকে নোবেল কমিটির লোকজন অতটা পছন্দ করেনাএর মানে, আমার ধারণা তারা এর খুবই ভুল ব্যাখ্যা করেছেহয়তো এখন তারা এটা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেযেমন উদাহরণস্বরূপমেমোরীজ অব এ সারভাইভার’, অথবা ব্রিফিং ফর এ ডিসেন্ট ইনটু হেলএগুলো শ্রেণীবদ্ধ করা বেশ কঠিনহয়তো এটা তাদের জন্যও কঠিন ছিল
অ্যা. স্মি: আচ্ছা, মনে হচ্ছে নোবেল কমিটির পছন্দ অনেককে আনন্দিত করেছে গতকাল হোরেস ইঙ্গডাহল যখন আপনার নাম ঘোষণা করছিলেন তখন অসংখ্য প্রশংসা ঝড়ে পড়ছিল
ড. লে: ধন্যবাদ, ধন্যবাদ, ধন্যবাদ
অ্যা. স্মি: আমাদের সাথে কথা বলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদএই ডিসেম্বরে যখন আপনি পুরস্কার নেয়ার জন্য স্টকহোমে আসবেন আমার ধারণা হোরেস ইঙ্গডাহল আপনার একটি লম্বা সাক্ষাৎকার নেবেনততোদিন পর্যন্ত আপনার অপেক্ষায় রইলাম
ড. লে: আপনার দেখা পাবো আশা রাখিধন্যবাদ
অ্যা. স্মি: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ
ড. লে: বাই
অ্যা. স্মি: বাই বাই

ঢোল বাজানোর হাড়

কামরুজ্জামান কামু

গভীর রাতে যেই ফুটেছে
উত্তেজনা ঠোঁটের
কামাড়পাড়া পার হয়ে ওই
লোহার গাড়ি ছোটে।

চাকার নিচে রেলের বাঁকা
লাইন গিয়েছে দূরে
কদম গাছে অদম্য কাক
পড়লো মাথা ঘুরে।

মাথায় নয় রে মাথায় নয় রে
ব্যথা করছে ঘাড়
মাংস চামড়া ছাড়িয়ে নিলে
ঢোল বাজাবে হাড়।

হোমওয়ার্ক

(নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রতি)
রনজু রাইম

জোট বেঁধে আমরা তোমার গৃহে যেতাম
যদিও ফিডব্যাকের কোনো বালাই ছিল না
তবু কিছু হোমওয়ার্ক নিয়ে আসতাম
প্রাচ্যকলা বিষয়ে তোমার আবেগ
কথায় কথায় ঘনীভূত হতো
আর আমরাও খুঁজে পেতাম একফালি
নিজস্ব আকাশ


আড্ডার সেই বন্ধুরা আজ ছিটকে পড়েছি
তুমি ছিলে ভর-কেন্দ্রের অনিবার্য টান
আমরা ক-বন্ধু রোজ তোমার টোলে গিয়ে
নিয়েছি কতো না শিল্পের পাঠ
সবকিছু বাদ দিলেও তোমার দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
আসন পাবে জানি শিল্পের উচ্চ মার্গে
জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী যে ঝুলন্ত রেখা
তোমার চাকা সেখানেও পথ করে নেবে
কালে কালে শংসা কুড়াবে তোমার কৃত্য

ইতিহাস

মৌমিতা জাহান


আলোর প্রকাশকে কলঙ্কিত করে কাগজগুলো
মাছরাঙ্গা হয়ে খেয়ে ফেলে প্রতিটি শব্দ
আর প্রচ্ছদ
দেহাবরণের ঐকিক নিয়মে।
ওজন পদ্ধতির সংবেদনশীল সংশোধনী কড়া নাড়ে
তাই কেজি দরে এখন মেধা বিক্রি হয় সমাজালয়ে।
জন্তুরা প্রচলিত স্বপ্নকে হরণ করে ক্ষয়িষ্ণু আবেশে ,
বেলা শেষে দেখি ,
চুরি হয়ে গেছে আমাদের ফুটফুটে শৈশব।
পড়শিরা স্পর্ধা ভেদ করে অবেলায়
বয়সের লবনাক্ততা ভুলে ক্রোধ ও নিবন্ধনকৃত শব্দ
ফেলে আসে ঘরে ঘরে।
অবশেষে মৌলিক সম্পর্ক ছেঁকে দেখি ,
উৎস মুখে তীব্র অন্ধকার, সেখানে শুধু ‘হিংসাই জন্মে’।
অত:পর
শহীদের রক্ত গড়িয়ে পড়ে
প্রতিটি বর্ণে
প্রতিটি শব্দে
প্রতিটি চরণে
প্রতিটি পৃষ্ঠায়
বয়ে যাওয়া মৌসুমে, ইতিহাসে।


ফুল, ফুল শুধুই ফুল

সোলায়মান বাবুল

অদূরে প্রচন্ড সোরগোল !
এক এক করে অজস্র ঘাতকের হুংকার,
‘তর জীবনডার আয়ুষ্কাল খতম !
কান পাইতা দে ;
হুনবার পারস আজরাইলের কন্ঠস্বর ?
ইয়া ইয়া ইয়া.......হুম্ !’
শোনা গেলো আর্তচিৎকার মানুষের।
পরমুহূর্তে নৈঃশব্দ।
একই ঘটনাক্রম পুনরায়, পুনরায়, পুনরায়।

প্রবল পরাক্রমশালী ঝঞ্ঝা এক
জীবনের বসতিতে এসে থমকে দাঁড়ায়।
জানতে চায়,
জীবন কী ফুলে ফুলে সাজানো শয্যা ?
প্রত্যাশার মত করে জীবনটা কী শুধুই পাবার ?
নাকি গড়ে নেবার ?
নাকি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে সমস্ত প্রতিকূলতাকে
মোকাবেলা কোরবার ?

তারপরেও ঘাতকের হুংকার -
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় !
আমাদের হৃৎপিন্ড বিদীর্ণ করে ;
বসতি গুড়িয়ে দেয়,
উত্তর প্রজন্মের দিকে তাকায়, সংক্ষুব্ধ !

গতা মাছের জীবন প্রণালী

মোখলেছুর রহমান মুকুল

দিনে দিনে অনৈতিকতায় মুগ্ধ হন তিনি
বালক-ভ্রমে
দেহ খুলে
নেমে পরেন পচা বদ্ধ জলাশয়ে
দুর্গন্ধময় জলে
তার পুনর্জন্ম ঘটে
কাদাবাসী গতাদের সংসারে
আরও কিছু জলীয় কীটদের নিয়ে
তারপর খেলা করেন কাদায় কাদায়

প্রতিপক্ষ প্রকৃতির মতো

মোঃ মিজানুর রহমান জুয়েল

প্রতিপক্ষ প্রকৃতির মতো মুগ্ধতা ছড়াও
শিল্পও শেখাও।
তোমার অফুরন্ত জীবন
পাঠ করি প্রতিদিন ;
এতো অপার বিস্ময় কী করে
ছড়াও তুমি ?
তোমাকে অনুবাদ করি কাব্যে, চিত্রে -
আটপৌঢ়ে সময়ের বুকে।

ওয়েসিসগত নীল জল

মোকলেছুর রহমান

প্রেষণাচক্রে ক্রোশ ক্রোশ দুঃখ পার হয়ে
ওয়েসিসগত
নীল জল পান করছি -
জেনো,
দুঃখের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সুখ
আর নেই।
দুঃখই মহান সুখ, প্রকৃত সুখ।

কুয়াশা

ফিরোজ এহ্‌তেশাম

ঝাপসা হয়ে আসে ধীরে ধীরে সকল সম্পর্ক আমাদের।
শূন্যে জ্বলে থাকে বিস্মৃতপ্রায় আলো -
অসহায়, কুন্ঠিত, আত্মকেন্দ্রিক ;
তার-ই নিচে আধা জাগ্রত কবেকার মৃদু-পানশালা।
ঘোরগ্রস্থ শব্দ শোনা যায়।

অনেক হেমন্ত শেষে পাশাপাশি
কেমন আড়ষ্ট হয়ে বসে আছি বর্তমানে, আমরা সবাই
আগুনকে ঘিরে ফেলি। আমাদের কোনো নাম নাই।
আমাদের বাক্যগুলো কোনো অর্থ পাবার আগেই
পরিণত হচ্ছে কুয়াশায়।

ধান

জিন্টু হিমালয়

৭৫টি ধান বীজ বুনে ঊনষাটটি মা পাইয়ে
দিলাম চর বলরামপুরের রৌদ্র-কুটিরে।
আবার একদিন সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গে প্রসূতিগঞ্জের বাজারের দিনে
খরচ করেছি গ্রাম-বাংলার সুখগুলো।
হাইস্কুল থেকে বাড়ি ফিরে এসে দেখি
উদ্ভাবিত প্রশ্নগুলো সজীব হয়েছে , বেড়েছে বিস্তর ;
পরিপূর্ণ হয়েছে গরম ভাতের থালা।
আমি উবু হয়ে দেখি , প্রতিটি ধান কথা বলে।
বলে,‘এসো বিস্তৃত হই মহাকালের মতো।’

সাবিত্রীও ‘মুক্তনারী সংস্থা’র সদস্য ছিল

মিজান খন্দকার


সন্ধ্যা ঘনায়ে এলো বেলা গেলো অই
১.আইসো বাহে মা বোনেরা এক জোট হই......

তো জোট বাঁধতে নীল সাগর গ্রামের মোমেনা, মংলী, জুলেখা ও ক্ষমাময়ী বিকেলবেলা নিজ নিজ বাড়ি হতে বেরিয়ে পড়লো। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৭, ৪০, ২৪ আর ৫২। একজন একজন করে চারজনেই পূর্ব নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিয়ন কাউন্সিলের মাঠে একটি প্রাচীন অশত্থ গাছের নিচে উপস্থিত হলো। তারপর জোটবদ্ধ হয়ে তারা আবার মন্ডল পাড়ার সিরাজ মন্ডলের বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলো। ঠিক সে সময় বর্মণপাড়ার কোনো এক বাড়ি থেকে একটি মেয়ে মরণ চিৎকার দিয়ে উঠলো। শুনে চারজন মহিলা এক সাথে স্থানু হয়ে পড়লো। চিৎকারটা ক্রমাগত বাড়তে থাকলো।

‘বর্মণপাড়াত ফির কি হইল?’ ইউনিয়ন কাউন্সিলের অদূরে দক্ষিণ দিক বরাবর বর্মণপাড়ার দিকে তাকিয়ে ক্ষমাময়ী উদ্বিগ্ন , ‘কাইয়ো মরিল নাকি?’

মোমেনার কৌতুহল জাগলো। বললো ,‘হাটো, দেখি আসি কি হইছে।’

মংলী দ্বিধা করতে লাগলো। বললো ,‘ডেরী হইলে আপা যদি আগ হয়?’

‘অটে কি হামরা শুতমো। ঘটনাটা কি, দেখিই চলি আসমো। একটুকো ডেরী হবার নোয়ায়। হাটো যাই।’ বলেই জুলেখা মৃদুগতিতে দৌড়োতে শুরু করলো বর্মণপাড়ার দিকে।

২.রৈখিক ধ্বনির সব চিৎকার মৃত্যুর মতোই.......

বাঁশবন আর জঙ্গলে ঘেরা জীতেন বর্মণের বাড়ির পেছনের জীর্ণ বেড়ার উপর অসংখ্য মহিলা সেঁটে রয়েছে। আশে পাশে কিছু পুরুষও জটলা করছে। তাদের দেখে জুলেখা, মংলী, মোমেনা ও ক্ষমাময়ী থমকে দাঁড়ালো। বাড়ির ভেতর মৃত্যুগ্রস্থ জানোয়ারের মতো চিৎকার করছে একটি মেয়ে। চার নারী দ্রুত পায়ে হেঁটে গিয়ে বেড়ার গায়ে সেঁটে থাকা মহিলাদের ফাঁকে ঢুকে বেড়ার ফুটায় চোখ রাখলো। দ্যাখলো , সাবিত্রীকে তার শ্বশুর জীতেন বর্মণ, ভাসুর সুবল ও স্বামী রাখাল উন্মত্ত আক্রোশে মারছে। শ্বাশুরী হেমবালা পাশে দাঁড়িয়ে পুরুষদের সম্মিলিত নির্যাতন প্রক্রিয়া উপভোগ ও তদারক করছে। পুরুষ তিনজনের লাঠি, ঘুষি ও লাথি সাবিত্রীর শরীরের সর্বত্র নির্মম ভাবে আছড়ে পড়ছে। গ্রহণ ক্ষমতারও অধিক তীব্রতর যন্ত্রণায় সাবিত্রী কেঁপে কেঁপে উঠছে, বুক ফাটা আর্তনাদ করছে, মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে আর পুরুষদের এর ওর পায়ে মাথা কুটে অবিরাম মিনতি জানাচ্ছে ,‘..........আর ডাংগান না, তোমরা মোর বাপ হন, দয়া করেন.......উ:......ওরে মা, মরি গেনু মা, মরি গেনু ..... তোমার গু খাং, তোমরা মোর বাপ হন, আর ডাংগান না ....... ভগবান মোক অক্ষা কর ভগবান ...... উহ্ .... মা .... কাইয়ো মোক একনা দয়া করেন, মোক বাঁচান ..... ওরে মা, মরি গেনু মা ...... কাই আছেন, আগান বাহে, মোক মারি ফেলাইলে বাহে .........